এ পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সরকারের কাছে তদবির শুরু করেছে টেক জায়ান্টটি। ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চ্যাংশিন মেমোরি টেকনোলজিস (সিএক্সএমটি) থেকে চিপ কিনতে চায় অ্যাপল। বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। চিপের এ বাড়তি দামের কারণে অ্যাপল বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। মূলত নিজেদের চাপ কমাতেই প্রতিষ্ঠানটি ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের দাম আকাশছোঁয়া। অন্যদিকে চীনা চিপ নির্মাতাদের ওপর ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ দুইয়ের মাঝে পড়ে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো বেশ সংকটে পড়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, প্রায় এক মাস আগে অ্যাপল এ বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এছাড়া ওয়াশিংটনের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও সহযোগীদের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটি আলোচনা করেছে। তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে হোয়াইট হাউজ, অ্যাপল বা সিএক্সএমটি কোনো মন্তব্য করেনি।
সিএক্সএমটিকে চীনা সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন)। গত বছর একটি আন্তঃসংস্থা কমিটি প্রতিষ্ঠানটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এনটিটি লিস্ট’ বা কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেয়।
মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, কালো তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া পণ্য, সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি সরবরাহ করা যায় না। সাধারণত এ ধরনের লাইসেন্সের আবেদন মার্কিন প্রশাসন থেকে বাতিল করা হয়।
উল্লেখ্য, বাড়তি খরচের প্রভাব সম্প্রতি অ্যাপলের পণ্যের ওপর পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের দাম বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপল জানায়, চিপের বাড়তি খরচের চাপ থেকে গ্রাহকদের আর সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়েই পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে।